সুন্দরবন, প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার হাতছানি

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, জানুন এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড সম্পর্কে

পৃথিবীর বুকে এমন কিছু স্থান আছে যা একইসাথে রহস্যময় এবং মনোমুগ্ধকর। সুন্দরবন তেমনই এক আশ্চর্য জগৎ। বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা এই ম্যানগ্রোভ বনভূমি শুধু বাংলাদেশ এবং ভারত নয়, বিশ্ব প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ। এর সবুজ অরণ্যের নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জে ওঠা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হুঙ্কার, আঁকাবাঁকা নদীপথে কুমিরের অলস আনাগোনা, আর পাখির কলকাকলি—সব মিলিয়ে সুন্দরবন যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তী। আজকে আমরা সেই সুন্দরবন সম্পর্কে জানব এর বিস্তীর্ণ আয়তন, বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূপ্রকৃতি, আর কিছু আকর্ষণীয় বিষয় সম্পর্কে, তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

সুন্দরবন নামের রহস্য

নদীর ধারের গাছ
নদীর ধারের সুন্দরি গাছ | Image by Bishnu Sarangi from Pixabay

সুন্দরবন নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর প্রকৃতির পরিচয়। ‘সুন্দর’ অর্থ সুন্দর বা রমণীয় এবং ‘বন’ মানে জঙ্গল বা অরণ্য। ধারণা করা হয়, এখানে প্রচুর পরিমাণে সুন্দরী গাছ জন্মায় বলেই এর নাম সুন্দরবন। আবার স্থানীয়দের মতে, ‘সমুদ্র বন’ থেকেও এই নামের উৎপত্তি হতে পারে। নামের উৎস যাই হোক না কেন, সুন্দরবন সত্যিই প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি।

বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড

সুন্দরবনের বিশালতা আমাদের মুগ্ধ করে। প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই বনভূমির প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার অংশ বাংলাদেশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্ভুক্ত। বাকি অংশটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত। এই বিশাল আয়তন এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমিতে পরিণত করেছে। অসংখ্য নদী, খাল, আর দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত সুন্দরবনের প্রতিটি স্থানে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য।

আরও দেখুনঃ পৃথিবীর সুন্দর ১০টি জায়গা – আপনি কি জানেন এগুলো কোথায়?

বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূপ্রকৃতি

গাছের শ্বাসমূল
গাছ এবং গাছের শ্বাসমূল | Image by Bishnu Sarangi from Pixabay

সুন্দরবনের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। লবণাক্ত জলের এই বনভূমিতে শ্বাসমূল যুক্ত ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের আধিপত্য দেখা যায়। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে এখানকার মাটি দিনে দুবার প্লাবিত হয়। এই কারণে এখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল লবণাক্ত পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। অসংখ্য ছোট-বড় নদী আর খাল একে অপরের সাথে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে, যা এই বনভূমিকে নৌ-ভ্রমণের জন্য এক অসাধারণ গন্তব্য করে তুলেছে। এখানকার মাটি মূলত পলিমাটি দ্বারা গঠিত, যা উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত উর্বর।

জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার

বেঙ্গল টাইগার
রয়েল বেঙ্গল টাইগার/বাঘ | Photo by Diego F. Parra

সুন্দরবন শুধু একটি বনভূমি নয়, এটি জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল ভান্ডার। রয়েল বেঙ্গল টাইগার এই বনের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাণী। সুন্দরবনে যে পরিমান বাঘ দেখা যায় তা পৃথিবীর অন্য কোনো ম্যানগ্রোভ বনে এত সংখ্যক বাঘ দেখা যায় না। বাঘ ছাড়াও এখানে চিত্রা হরিণ, বানর, বনবিড়াল, খেঁকশিয়াল, শূকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী বাস করে।

পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে সুন্দরবনের আকাশ। বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, মাছরাঙা, চিল, ঈগল এবং আরও অসংখ্য পরিযায়ী পাখি এখানে এসে আশ্রয় নেয়। সরীসৃপের মধ্যে কুমির, সাপ (যেমন অজগর, গোখরা), কচ্ছপ উল্লেখযোগ্য। নদীর জলে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া ও চিংড়ির। 

সুন্দরবনের বাংলাদেশি অংশে কিছু মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ স্থান

বাংলাদেশী সুন্দরবন
সুন্দরবনের বাংলাদেশি অংশ | Image by Tareq Shuvo from Pixabay

করমজলঃ সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বললেই চলে করমজলকে। এটি মূলত একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্র ও বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এখানে কাঠের তৈরি ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে যাওয়া যায় এবং কুমির, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে সুন্দরবনের স্বাদ পেতে চাইলে করমজল একটি চমৎকার স্থান। এখানকার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেক পর্যটকদের কাছে প্রিয় গন্তব্য।

হিরণ পয়েন্টঃ হিরণ পয়েন্ট বা নীলকমল সুন্দরবনের অন্যতম সুন্দর স্থান। চিত্রা হরিণের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে এটি পরিচিত। এখানে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে যেখান থেকে বনের মনোরম দৃশ্য এবং হরিণদের দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ানো দেখা যায়। ভাগ্য ভালো হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও মিলতে পারে। এখানকার শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

দুবলার চরঃ দুবলার চর মূলত একটি জেলেপল্লী। তবে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও কোনো অংশে কম নয়। শুঁটকি তৈরির জন্য এই চর বিখ্যাত হলেও, শীতকালে এখানে বিভিন্ন ধরনের পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। এখানকার বিশাল ম্যানগ্রোভ বন এবং সমুদ্রের নৈকট্য একে একটি বিশেষ আকর্ষণ দিয়েছে। প্রতি বছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা বহু পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

কটকাঃ কটকা সুন্দরবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ স্থান। এখানে একটি বনরক্ষী কার্যালয় এবং একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। কটকার চারপাশের ঘন ম্যানগ্রোভ বন এবং খোলা তৃণভূমি বন্যপ্রাণী দেখার জন্য আদর্শ। এখানকার সমুদ্র সৈকতটিও বেশ আকর্ষণীয়। কটকা থেকে জামতলা পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া একটি জনপ্রিয় রুট, যা বনের ভেতরের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়।

কচিখালীঃ কচিখালী সুন্দরবনের পূর্বে অবস্থিত একটি নয়নাভিরাম স্থান। এটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। এখানে লম্বা ঘাসের তৃণভূমি এবং ঘন বন একসাথে দেখা যায়। কচিখালী থেকে বিভিন্ন ওয়াচ টাওয়ারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যেখান থেকে বনের বিস্তৃত দৃশ্য এবং বন্যপ্রাণীদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা যায়। এখানকার নীরব ও শান্ত পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতঃ সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই নির্জন সমুদ্র সৈকতটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অসাধারণ আবিষ্কার তৈরি করতে পারে। এখানকার দীর্ঘ বেলাভূমি, লাল কাঁকড়ার দল এবং সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য মন মুগ্ধ করে তোলে। তুলনামূলকভাবে কম জনসমাগম হওয়ায় এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রঃ এটি সুন্দরবনের একটি নতুন আকর্ষণ। এখানে ম্যানগ্রোভ বনের পরিবেশের সাথে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে। এখানকার ওয়াচ টাওয়ার থেকে বনের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় ফল ও গাছপালা সম্পর্কে জানা যায়।

সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে কিছু মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ স্থান

ম্যানগ্রোভ বন
সুন্দরবনের ভারতীয় অংশ | Image by Bishnu Sarangi from Pixabay

সজনেখালি ওয়াচ টাওয়ারঃ সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসাবে পরিচিত সজনেখালী, পর্যটকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে, যেখান থেকে বিস্তীর্ণ বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীদের দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখার জন্য এটি চমৎকার একটি স্পট। সজনেখালী ইকো-ট্যুরিজম কমপ্লেক্সে একটি কুমির পুকুর এবং একটি বনদেবী মন্দিরও রয়েছে যা পর্যটকদের আগ্রহ সৃষ্টি করে।

সুধন্যখালি ওয়াচ টাওয়ারঃ এটি সুন্দরবনের আরেকটি জনপ্রিয় ওয়াচ টাওয়ার। এখানকার জলাশয়ের আশেপাশে প্রায়শই বাঘ, হরিণ এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের দেখা যায়। ওয়াচ টাওয়ারের চারপাশের মনোরম দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় করে নেয়। শীতকালে এখানে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে, যা এই স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

দোবাঁকি ওয়াচ টাওয়ারঃ দোবাঁকি তার ৪.৯ মিটার উঁচু ক্যানোপি ওয়াকের জন্য বিখ্যাত। এই ওয়াকের মাধ্যমে হেঁটে গেলে বনের ভেতরের দৃশ্য এবং বন্যপ্রাণীদের কার্যকলাপ কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এখানকার সরু খাঁড়ি এবং ঘন ম্যানগ্রোভ বন সত্যিই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেয়। ভাগ্য ভালো হলে এখান থেকেও বাঘের দেখা মিলতে পারে।

বনি ক্যাম্পঃ বনি ক্যাম্প সুন্দরবনের গভীরে অবস্থিত একটি শান্ত ও সুন্দর স্থান। এখানে একটি ওয়াচ টাওয়ার এবং কিছু বিশ্রামাগার রয়েছে। এখানকার প্রাকৃতিক নীরবতা এবং পাখির কলরব মনকে শান্তি এনে দেয়। বনি ক্যাম্পের চারপাশের ম্যানগ্রোভ বন অত্যন্ত ঘন এবং বিভিন্ন প্রকার বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।

নেতিধোপানি ওয়াচ টাওয়ারঃ নেতিধোপানি তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত। এখানে একটি ৪০০ বছরের পুরনো শিব মন্দির ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। লোককথা অনুযায়ী, দেবী মনসা এখানে সাধনা করেছিলেন। এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে বনের মনোরম দৃশ্য দেখা যায় এবং এখানকার শান্ত পরিবেশ অনেক পর্যটকের কাছে প্রিয় গন্তব্য।

হলিডে আইল্যান্ডঃ নাম শুনেই বোঝা যায়, এটি একটি মনোরম দ্বীপ। এখানে লাল কাঁকড়াদের ঝাঁক এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনা দেখা যায়। দ্বীপের চারপাশের ম্যানগ্রোভ বন এবং জলাভূমি এক অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করে। যারা কোলাহলমুক্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য হলিডে আইল্যান্ড একটি আদর্শ স্থান।

পিয়ালী দ্বীপঃ কলকাতা নিকটবর্তী পিয়ালী দ্বীপ একটি মনোরম উইকেন্ড ডেস্টিনেশন হিসেবে পরিচিত। এই দ্বীপে বন বিভাগের গেস্ট হাউস এবং কিছু রিসোর্ট আছে। এর সবুজ শোভা এবং পাখির কিচিরমিচির মনকে শান্তি এনে দেয়। পিয়ালী নদীর পাড় ধরে হাঁটলে এক নীরব ও সুন্দর অনুভূতি হয়।

ঝড়খালিঃ ঝড়খালি সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এখানে একটি কুমির উদ্ধার কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে কুমিরদের সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা হয়। ঝড়খালির চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও মুগ্ধ করার মতো। এখান থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে যাওয়ার জন্য নৌকা পাওয়া যায়।

সুন্দরবনে যা কিছু করার আছে

কাঠের নৌকা
সুন্দরবনে নৌকা ভ্রমণ করুন | Image by Bishnu Sarangi from Pixabay

সুন্দরবনে শুধু দর্শনীয় স্থান দেখাই যথেষ্ট নয়, এখানে এমন কিছু অভিজ্ঞতা লাভ করা যায় যা ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তোলে

নৌকা ভ্রমণঃ সুন্দরবনের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করার সেরা উপায় হলো নৌকা ভ্রমণ। বিভিন্ন আকারের লঞ্চ ও নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়, যেগুলোতে করে বনের সরু খাল ধরে ভেতরে যাওয়া যায়। এই সময় দু’পাশের ঘন ম্যানগ্রোভ বন এবং বন্যপ্রাণীদের দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা দেয়।

বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণঃ  সুন্দরবন বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য এক চমৎকার স্থান। ওয়াচ টাওয়ারগুলোতে উঠে বা বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে ট্র্যাকিং করার সময় বাঘ, হরিণ, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখার সুযোগ থাকে।

পাখি দেখাঃ যারা পাখি ভালোবাসেন তাদের জন্য সুন্দরবন এক স্বর্গরাজ্য। শীতকালে এখানে অসংখ্য পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। বন বিভাগের নির্ধারিত স্থানগুলোতে পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাঃ সুন্দরবনের কাছাকাছি বসবাসকারী জেলে ও মৌয়ালদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগও রয়েছে। তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

ভ্রমণের সেরা সময়

ভ্রমণের সেরা সময়
সুন্দরবন ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল |Photo by Muhammad Saidul Islam

সুন্দরবনে ভ্রমণের জন্য শীতকাল অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়টা সবচেয়ে ভালো। এই সময় আবহাওয়া সাধারণত শুষ্ক ও মনোরম থাকে। বর্ষাকালে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) বৃষ্টিপাতের কারণে বন কিছুটা দুর্গম হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় নদী উত্তাল থাকে।

কীভাবে যাবেন

সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য ঢাকা, খুলনা বা বাগেরহাট থেকে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। খুলনা অথবা মংলা বন্দর থেকে নৌপথে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যায়। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করে থাকে, যেখানে থাকা-খাওয়া ও নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ভারত থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য প্রথমে কলকাতা থেকে ট্রেনে করে ক্যানিং পৌঁছান (দেড়-দুই ঘণ্টা)। ক্যানিং স্টেশন থেকে বাস বা অটো নিয়ে গোদখালি বা অন্য লঞ্চঘাটে যান। সেখান থেকে লঞ্চ বা বোটে করে সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগে। কিছু ট্যুর অপারেটর কলকাতা থেকে সরাসরি সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজও দিয়ে থাকে।

আরও দেখুনঃ বাংলাদেশ থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের একটি সম্পূর্ণ ভ্রমণ গাইড

সংরক্ষণ ও গুরুত্ব

সুন্দরবন শুধু একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি উপকূলীয় অঞ্চলকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষা করে, ভূমিক্ষয় রোধ করে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য সুন্দরবনের সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তাই সুন্দরবন ভ্রমনে গিয়ে এমন কোন কাজ করবেন না যেটা বনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

উপসংহার

সুন্দরবন সত্যিই প্রকৃতির এক অসাধারণ সৃষ্টি। এর সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং রহস্যময় পরিবেশ প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এবং বন্য জীবনের রোমাঞ্চ অনুভব করতে চান, তাদের জন্য সুন্দরবন একটি অসাধারন স্থান। এই বনভূমি শুধু কোন নির্দিষ্ট দেশের সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব প্রকৃতির এক অমূল্য রত্ন। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই প্রাকৃতিক বিস্ময়কে রক্ষা করি এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *