স্মার্টওয়াচের বাজারে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে। অ্যাপল, স্যামসাং কিংবা অন্যান্য ব্র্যান্ড যখন নিজেদের ডিভাইসকে আরও উন্নত করার দৌড়ে ব্যস্ত, তখন গুগল হাজির করেছে তাদের এক নতুন মাস্টারপিস – Google pixel watch 4 নিয়ে। আর প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে একটি বহুল প্রতীক্ষিত ডিভাইস।
তাহলে চলুন, বিস্তারিত জেনে নেই – এর ফিচার, ডিজাইন, পারফরম্যান্স এবং কেন এটি আপনার জন্য সেরা স্মার্টওয়াচ হতে পারে।
এই নিবন্ধে যা যা থাকছে
ডিজাইন ও ডিসপ্লে

Google এবারেও Pixel watch 4 এ তাদের আইকনিক গোলাকার ডিজাইন ধরে রেখেছে, যা গুগলের স্মার্টওয়াচ সিরিজের একটি পরিচয় বহন করে। তবে এবার গুগল কিছু সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এই ওয়াচটি দুটি সাইজে পাওয়া যাচ্ছে – 42mm এবং 45mm। এছাড়া নতুন Actua 360 Dome ডিসপ্লে এবং 16% কম বেজেলের কারণে স্ক্রিনটি আরও বড় এবং Immersive দেখায়। ডিসপ্লেটির উজ্জ্বলতা এখন 3000 nit পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা সরাসরি সূর্যের আলোতেও দুর্দান্ত দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করে।
এছাড়া, ওয়াচটির বডি 100% পুনর্ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি, যা পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই। নতুন রঙের বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে Obsidian, Porcelain, Moonstone, Indigo, Limoncello, এবং Iris যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত স্টাইলের সাথে মানানসই। আরামদায়ক অ্যাকটিভ ব্যান্ড এবং স্পোর্টি স্পোর্ট ব্যান্ড ব্যবহারকারীদের জন্য আরও বেশি কাস্টমাইজেশনের সুযোগ দিচ্ছে।
আরও দেখুনঃ vivo T4 – সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন্স, ভালো-মন্দ এবং দাম
পারফরম্যান্স ও অপারেটিং সিস্টেম

পিক্সেল ওয়াচ ৪-এ রয়েছে Qualcomm Snapdragon W5 Gen 2 চিপসেট, যা আগের মডেলের তুলনায় দ্রুত এবং শক্তিশালি। এবং এর সাথে নতুন একটি কো-প্রসেসর যুক্ত হয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পর্কিত কাজগুলো আরও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে সক্ষম। এই ওয়াচটি Wear OS-6 দ্বারা চালিত, যা Material 3 Expressive UI এর মাধ্যমে একটি দৃষ্টিনন্দন এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেস প্রদান করে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো Gemini AI ইন্টিগ্রেশন। এখন আপনি কেবল হাত তুলেই গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। Gemini আপনার দৈনন্দিন কাজে স্মার্ট পরামর্শ, রিমাইন্ডার, এবং দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ব্যায়ামের সময় ক্যালোরি ট্র্যাক করতে বা মেসেজের দ্রুত উত্তর দিতে পারেন ফোন ব্যবহার না করেই।
স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ফিচার

স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত উন্নত। এটি ৪০টিরও বেশি ফিটনেস মোড সমর্থন করে, যার মধ্যে রয়েছে ইসিজি, ব্লাড অক্সিজেন (SpO2), হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি (HRV), এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ট্র্যাকিং। নতুন স্কিন টেম্পারেচার সেন্সর আপনার শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন সনাক্ত করে স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক সংকেত প্রদান করে। এছাড়া, ডুয়াল-ফ্রিকোয়েন্সি জিপিএস এর মাধ্যমে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় বা জঙ্গলে হাইকিংয়ের সময়ও সঠিক রুট ট্র্যাকিং নিশ্চিত করে। এছাড়া, এই ওয়াচটি স্মার্ট স্লিপ ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে আপনার ঘুমের চক্রের বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রদান করে, যা ১৮% বেশি সঠিক বলে দাবি করেছে গুগল।
নিরাপত্তা এবং সংযোগ

Watch 4-এর একটি অভিনব বৈশিষ্ট্য হলো স্ট্যান্ডঅলোন স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, যা এটিকে প্রথম স্মার্টওয়াচ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যা ফোন ছাড়াই জরুরি পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাহায্যের জন্য কল করতে পারে। এটি হাইকার, অ্যাথলিট, বা যারা প্রত্যন্ত এলাকায় ভ্রমণ করেন তাদের জন্য একটি জীবন রক্ষাকারী বৈশিষ্ট্য।
এছাড়াও, IP68 রেটিং এবং Gorilla Glass 5 এটিকে পানি ও ধুলো থেকে সুরক্ষা দেয়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো, এই ওয়াচটি এখন রিপেয়ারেবল, অর্থাৎ ব্যাটারি বা ডিসপ্লে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব, যা পরিবেশের জন্যও সহায়ক।
ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জিং

ব্যাটারি লাইফের ক্ষেত্রে পিক্সেল ওয়াচ ৪ উল্লেখযোগ্য উন্নতি এনেছে। 41mm মডেলে রয়েছে 327mAh এবং 45mm মডেলে 459mAh ব্যাটারি, যা যথাক্রমে ৩০ ঘণ্টা এবং ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয়, এমনকি Always-on ডিসপ্লে সক্রিয় থাকলেও। এছাড়া, নতুন Side-mounted charging dock 25% দ্রুত চার্জিং সুবিধা প্রদান করে, যা মাত্র ১৫ মিনিটে 0% থেকে 50% চার্জ করতে পারে।
স্মার্ট কানেক্টিভিটি ও ইকোসিস্টেম সাপোর্ট
Pixel Watch 4 খুব সহজেই গুগলের অন্যান্য ডিভাইস ও সার্ভিসের সঙ্গে কানেক্ট হয়। যেমনঃ
- Google Maps থেকে সরাসরি নেভিগেশন
- Google Wallet ব্যবহার করে কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট
- Google Calendar সিঙ্ক করে আপনার দৈনিক শিডিউল ম্যানেজ করা
- Pixel ফোনের সঙ্গে স্মুথ ইন্টিগ্রেশন
এছাড়া ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং LTE কানেক্টিভিটির কারণে এটি আরও বেশি ফ্লেক্সিবল।
বাংলাদেশে দাম এবং প্রাপ্যতা
বাংলাদেশে Google এর পিক্সেল Watch 4 এর অফিসিয়াল মূল্য এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে 41mm (Wi-Fi) মডেলের দাম শুরু হয়েছে 349 ডলার থেকে, আর LTE সংস্করণের জন্য দাম পৌঁছেছে 499 ডলার পর্যন্ত। বাংলাদেশে গ্রে মার্কেটে এর মূল্য প্রায় ৪০,০০০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে। তবে, গ্রে মার্কেট থেকে কেনার ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি এবং পণ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।